দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা আজভ সাগর এবং রাশিয়া অধিকৃত উপকূলীয় অঞ্চলে পাঁচটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো অবৈধভাবে পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার জানান, এসব জাহাজ ইউক্রেনের শস্য চুরি, সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এই হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সেই প্রস্তাব পুতিন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউক্রেন আরও নিশ্চিত করেছে, তাদের একটি নৌ ড্রোন রোমানিয়ার উপকূলে বিস্ফোরিত হয়েছে। শুক্রবার কনস্টান্টা বন্দরের কাছে এই ঘটনা ঘটে। এতে কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, তবে একটি তেল টার্মিনাল এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনীর প্রধান রবার্ট ব্রোভদি জানান, রাতের অভিযানে মারিউপোল, বারদিয়ানস্ক এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন উপকূলীয় এলাকায় পাঁচটি জাহাজে হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, এসব জাহাজের নাম ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং রাডার বন্ধ ছিল যাতে শস্য ও সামরিক পণ্য গোপনে পরিবহন করা যায়।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আজভ সাগরে হামলার ঘটনায় তাদের পাঁচ নাগরিক নিহত হয়েছেন, তবে তারা স্পষ্ট করেছে জাহাজগুলো আজারবাইজানের ছিল না।
এদিকে ইউক্রেনে গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিয়েভের বাইরে একটি দুগ্ধ কারখানায় ড্রোন হামলায় চারজন এবং খেরসনে একটি পেট্রোল স্টেশনে হামলায় একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলেনস্কি রাশিয়ার জনগণকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে রুশ নাগরিকরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রয়োজন দেখছেন না। রাশিয়ার অবস্থান অনুযায়ী, শান্তি আলোচনার জন্য ইউক্রেনকে অধিকৃত অঞ্চলগুলো ছাড়তে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র জেলেনস্কির আলোচনার আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছে।
এমএস/